You are currently viewing Deulghata Temple -In Purulia

Deulghata Temple -In Purulia

Deulghata Temple -in Purulia– আমরা যখনই পুরুলিয়ার কথা বলি তখনই , লাল মাটির রাস্তা, পলাশ ও কৃষ্ণচূড়া, অজোধ্যা পাহাড় এবং বাংলার গ্রামগুলির অসামান্য নির্মল পরিবেশের কথা মনে পড়ে যায় । পুরুলিয়া শহর থেকে ২৭ কিলোমিটার দূরে জয়পুর থেকে দক্ষিণে আরও ৭ কিলোমিটার দূরে কংসাবতী নদীর দক্ষিণ পাড়ে অফুরান প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে দেউলঘাটা অবস্থিত।

উত্তরবাহিনী গোরা নদী যেখানে কংসাবতী নদীর সাথে মিলিত হয়েছে সেই মিলনস্থলের শ্রেষ্ঠ তীর্থ দেউলঘাটা। কংসাবতীও এখানে অনন্য, একই সাথে দেখতে পাওয়া যায় এর দুই বৈপরীত্য রূপ। গর্জন করতে করতে অতিকায় সব পাথরের বাধা অবলীলায় অতিক্রম করে বয়ে গেছে শান্ত স্রোতস্বিনী হয়ে।

পুরুলিয়ার অনেক historical নিদর্শনগুলির অন্যতম রূপ Deulghata Temple -in Purulia । পুরুলিয়া শহর থেকে প্রায় 30 কিলোমিটার দূরে জয়পুর বোরাম গ্রামের কসাই নদীর তীরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই ইটের মন্দিরগুলি ছাড়াও কয়েকটি পাথরের মন্দিরের কয়েকটি চিহ্ন রয়েছে। পলাশ ও শিমুলের অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পুরো জায়গাটি ঘিরে রেখেছে।

পুরুলিয়া শহরের আড়ষা ব্লকে কংসাবতীর দুই পাড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরনো দুর্মূল্য কিছু প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন। আশপাশে পড়ে থাকা পাথরের স্তূপ বলে দেয় যে এককালে এখানে অনেকগুলি দেউল ছিল।

তবে এখন দাঁড়িয়ে আছে শুধু দুটি। কয়েক বছর আগেও দেউল ছিল তিনটি। সবচেয়ে বড় দেউলটি ভেঙে পড়ে ২০০২ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর ভোর চারটের সময়, সেই সময় পুরাতত্ত্ব বিভাগ এই মন্দির সংস্কার করছিল। দেউল থেকেই এলাকার নাম হয় দেউলঘাটা।

Deulghata Temple in Purulia
Deulghata Temple in Purulia

Natural Beauty – Deulghata Temple

আক্ষরিক অর্থে, ‘দেউলঘাটা’ অর্থ ‘মন্দিরের দেশ’। Deulghata Temple in Purulia পুরুলিয়ায় জৈন ধর্মের প্রভাবের প্রমাণ। বাস্তবে এমন একটি সময় ছিল যখন পুরুলিয়া ছিল বাংলায় জৈন ধর্মের একটি সমৃদ্ধ কেন্দ্র। কসাই নদীর তীরে অবস্থিত জৈনদের তিনটি ইট এর মন্দির ছিল।

এর মধ্যে বড়ো  মন্দির টি কয়েক  বছর আগে  ধ্বংস হয়ে গেছে। তবুও, এই Deulghata Temple পলাশ এবং শিমুল গাছের ছায়ায় রয়েছে । 24 এবং শেষ জৈন তীর্থঙ্কর, বর্ধমান মহাবীর, এখানে যথেষ্ট সময় কাটিয়েছেন বলে বিশ্বাস করা হয়।

Deulghata Temple -As View From E.T Dalton

দেউলঘাটার মন্দিরের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ছোট নাগপুরের কমিশনার, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ই. টি ডাল্টনের লেখা “Notes on a Tour in Manbhoom in 1864-65” প্রবন্ধে। ডাল্টন তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন যে উনি পুরুলিয়ার জয়পুর গ্রামের চার মাইল দক্ষিণে কাঁসাই নদীর ডানদিকের পাড়ে বোড়াম গ্রামের সন্নিকটে অনেক পাথর ও ইঁটের ধংসাবসেশের মধ্যে তিনটি সুবিশাল ইঁটের তৈরী মন্দির দেখেছিলেন।

ডালটন উল্লেখ করেছেন যে তিনটি ঢিপির উপর মন্দিরগুলি দাঁড়িয়ে ছিল, সেগুলো ছাড়া আরও অনেক ঢিপির উপর একই ধরনের ভগ্নাবশেষ ছিল। তিনটি মন্দিরের মধ্যে সবচাইতে উঁচু মন্দিরটির উচ্চতা ছিল ৬০ ফুট যেটি ২০০২ সালে ধ্বসে পড়ে। তিনি উল্লেখ করেন যে এই মন্দিরের উপরের ভাগটি তিনি ভগ্ন অবস্থায় দেখতে পান এবং এই অংশটির পূর্বাবস্থা অনুমান করা সম্ভব ছিল না।

ডাল্টন এও উল্লেখ করেছেন যে এই Deulghata Temple In Purulia যে ইঁট দিয়ে তৈরী তা এতটাই নিঁখুত যে মনে হয় যেন এগুলো যন্ত্রের সাহায্যে তৈরী করা হয়েছিল। ইঁটগুলি এত নিঁখুত ভাবে বসানো আছে যে দুটো ইঁটের মাঝখানে একটা ছুরির ফলা ঢোকানোও অসম্ভব ব্যাপার। মন্দিরগুলি সবই পুবমুখী। ডাল্টন মন্দিরগুলির গর্ভগৃহে কোনও বিগ্রহ দেখতে পাননি। তবে সর্বোচ্চ মন্দিরের দেওয়ালে উনি জল নিষ্কাশনের জন্য পাথর নির্মিত চোঙ দেখতে পান। উনি অনুধান করেন মন্দিরের দেবতা কে স্নান করানো পর এই স্থান দিয়ে জল নিষ্কাশন করা হত।

Deulghata Temple in Purulia
Deulghata Temple in Purulia

ডাল্টনের মতে যে ইঁটগুলি দিয়ে মন্দিরগাত্রের কারুকার্য করা হয়েছে সেগুলো আগে ছাঁচে ফেলে তৈরী করা হত আর তার পরে সেগুলো পোড়ানো হত। ওনার মতে যে ভাবে এই অলংকৃত ইঁটগুলি মন্দিরগাত্রে বসানো হয়েছিল তা খুবই নিঁখুত ও সুরুচিপূর্ণ। বাকি যে দুটি মন্দির উনি দেখতে পান সেগুলির অলঙ্করণও এই মন্দিরের মতন, কিন্তু ওই দুটি মন্দিরের আকার এর থেকে ছোট।

বর্তমানে যে দুটি ইঁটের দেউল দাঁড়িয়ে আছে তার মধ্যে একটির উচ্চতা প্রায় ৪৫ ফুট। এটিও একটি পূর্বমুখী রেখ দেউল। প্রবেশদ্বারটি সরু ও ত্রিভুজাকৃতি। দুটি দেউলই উঁচু বেদীর উপর প্রতিষ্ঠিত এবং দুটিতেই রয়েছে বাড়, গন্ডি ও মস্তক অংশ। দেউল দুটিরই মস্তক ক্ষয়প্রাপ্ত। দেউল মন্দিরদুটিতে রয়েছে ছোট ছোট কুলুঙ্গি।

পুরুলিয়ার ইতিহাস গবেষক সুভাস রায় মনে করেন এই কুলুঙ্গিগুলিতে একসময় জৈন তীর্থঙ্কর মূর্তি বা অন্য কোনো দেবদেবীর বিগ্রহ বসানো থাকত। অপর দেউলটি প্রায় ধবংসোন্মুখ। এই দুটি ইঁটের দেউলের গায়ে অলঙ্করণ হিসাবে প্রদর্শিত হয়েছে ক্ষুদ্রাকৃতির একাধিক দেউল যা থেকে পূর্ণাঙ্গ দেউলগুলির গঠন ভঙ্গিমা বুঝতে পারা যায়।

Deulghata Temple in Purulia
Deulghata Temple in Purulia

 লেফটেন্যান্ট কর্নেল ই. টি ডাল্টনের বর্ণনা মতন জল নিষ্কাশনের জন্য দুটি দেউলেই দেখতে পাওয়া যায় সুন্দর জলনিষ্কাশণ প্রণালী। কোনও দেউলে হয়তো মকরমুখ, কোনওটিতে হস্তিমুখ, যে মুখ দিয়ে বিগ্রহ প্রক্ষালনের জল বেরিয়ে আসত।

এছাড়া দুটি পাথরের দেউলের অবশিষ্ট ভাগ এখনও রয়েছে। একটি প্রস্তর দেউলের পাদভাগের উপর তৈরী হয়েছে একটি আধুনিক শিব মন্দির| অন্য দেউলটির পাদ ভাগ এবং তিনদিকের দেওয়ালের অংশবিশেষ এখনও টিঁকে আছে| এর অভ্যন্তরে রয়েছে একটি শিবলিঙ্গ যেটি তিনটি স্তরে সজ্জিত। একটু ঘোরালেই তিনটি স্তর আলাদা ভাবে ঘুরতে থাকে।

Leave a Reply