You are currently viewing Kashipur Rajbari – ইতিহাসে কাশীপুর রাজবাড়ী – Purulia

Kashipur Rajbari – ইতিহাসে কাশীপুর রাজবাড়ী – Purulia

Kashipur Rajbari in Purulia– কাশীপুরের রাজবাড়ির ইতিহাস:–মহারাজ জ্যোতিপ্রকাশ সিংহ দেও ১৯১৬ সালে চীন থেকে রাজমিস্ত্রি এনে এই রাজবাড়ী তৈরি করেন। টানা ১২ বছর ধরে এই রাজবাড়ির নির্মাণ কাজ চলেছিল। বেলজিয়াম থেকে বিশাল ঝাড়লন্ঠন নিয়ে এনে লাগিয়েছিলেন প্রাসাদের দরবার হলে।

মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর ধারণ গড়,ঝলদা ,পাড়া ,গড় পঞ্চকোট ,মহারাজ নগর, বামবনি,কেশরগড় হয়ে কাশীপুর।পঞ্চকোট রাজ বংশের শেষ রাজা রানী হয়ে উঠেছিল কাশীপুর। দিগ্বিদিকের পন্ডিত ব্যক্তিবর্গ কে নিয়ে রীতিমতো ‘নবরত্ন’ সভা বসত রাজদরবারে।

১৯৩২-১৯১৪ থেকে এই সময়কালের মধ্যে কাশীপুরের বিরাট পরিবর্তন হয়েছিল। এই পরিবর্তন হয়েছিল মূলত পঞ্চকোট রাজ বংশের রাজা নীলমণি সিংহ দেও ও তার সুযোগ্য নাতি জ্যোতিপ্রসাদ সিংহদের হাত ধরে। এই দুজনের কৃতিত্ব নিদর্শন হয়ে ফুটে উঠেছে পঞ্চকোট রাজবাড়ী Kashipur Rajbari in Purulia। এইবারের দরবার থেকে ভেসে আসত ঝুমুর, ভাদু থেকে বিষ্ণুপুর ঘরনার উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত। দরবার হল ঘরে থাকতো মৃদঙ্গের বোল আর বাঁশির মিঠে সুরে।

Kashipur Rajbari in Purulia

১৮৩২ সালে হুড়ার কেশরগড় থেকে রাজধানী দ্বারকেশ্বর নদের ধারে কাশীপুরে নিয়ে আসে। পঞ্চকোট রা জগজীবন সিংহ দেও ।এটি তাদের সপ্তম তথা শেষ রাজধানী। কাশীপুরে এই বংশের সাত রাজা জগজীবন, নীলমণি, হরিনারায়ন, জ্যোতিপ্রসাদ, কল্যাণী প্রসাদ ,শঙ্করীপ্রসাদ ,ভুবনেশ্বরী প্রসাদ রাজত্ব করেছিলেন।

Kashipur Rajbari in Purulia– রাজধানী গড়ে উঠেছিল কাশিপুর নপারা রঙ্গিলারে গোপালাদূর ,গোপালচক, বামমনি, কল্লোল মৌজা কে নিয়ে।মানভূম বাঁকুড়া বর্ধমান রাচি প্রভৃতি জেলায় এই বংশের জমিদারির বিস্তৃত ছিল ২৭৭৯ বর্গমাইল।
সাতজন রাজত্ব করলেও কাজকর্মের নিরিখে উপরের দিকে দুই রাজা নীলমণি ও জ্যোতিপ্রসাদ এর নাম উঠে আসে।তৎকালীন মানভূম বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজে তাদের দান ও সাহায্যের কথা বিশেষ উল্লেখযোগ্য।তিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন। সিপাহী বিদ্রোহের সময় তাঁর নেতৃত্বেই পুরুলিয়া ট্রেজারি লুঠ হয়েছিল। তিনি জেল ভেঙে ৬৩ জন কয়েদিকে মুক্ত করেছিলেন।

Kashipur Rajbari in Purulia

কেশরগড় এলাকার সাঁওতাল সম্প্রদায় এই আন্দোলনে তাকে সহযোগিতা করেছিলেন। ভীত হয়ে সাহেবরা পুরুলিয়া থেকে রঘুনাথপুর হয়ে রানীগঞ্জে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এই সময়ে পুরুলিয়া তিন মাস ব্রিটিশ প্রশাসনে মুক্ত ছিল।পরে পুলিশ নিয়ে এসে ক্যাপ্টেন ওকস্ নীলমণি কে গ্রেফতার করেন। তারপর তাকে জামিনে মুক্ত করেন কাশিম বাজারের রানী স্বর্ণময়ী। বিনিময়ে তিনি তাকে পঞ্চকোট রাজ্যের ৪৪ টি মৌজা দান করেন।

বিষ্ণুপুরের বিখ্যাত সঙ্গীত অধ্যাপক এ জগচ্চন্দ্র গোস্বামী, মৃদঙ্গবদিক হারাধন গোস্বামী ,বংশীবাদক, পুরান সিংহ ,চৌতাল বা নবদ্বীপের প্রমুখ এর মত পণ্ডিতদের তিনি তার রাজসভায় নিয়ে আসেন।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য তিনি চালু করেন ‘পঞ্চকোট সংস্কৃতপুরস্কার’।872 সালে মধুসূদন দত্ত কিছুকাল রাজা নীলমণির আইন উপদেষ্টা হয়েছিলেন।

You May Read – Joy Chandi পাহাড়- পুরুলিয়া

তিনি একটি মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে পুরুলিয়া এসেছিলেন। তিনি রচনা করেন পঞ্চকোট গিরি ‘পঞ্চকোট রাজশ্রী’, ‘পঞ্চকোট বিদায় সংগীত’ নামে তিনটি সনেট।
রাজা নীলমণি সেই ধারা পেয়েছিলেন রাজা জ্যোতিপ্রসাদ। এই দুজনের রাজত্বকালে কাশীপুরে আরো কয়েকজন গুণী জনের সমাবেশ ঘটেছিল। যেমন রবীন্দ্রনাথের সংগীত শিক্ষক যদু ভট্ট, ঝুমুরিয়া ভবপ্রীতানন্দ ওঝা।


মাত্র ২০বছর বয়সে তিনি রাজ্য ভার গ্রহণ করেন। কিন্ত বিদ্যোৎসাহী জ্যোতিপ্রসাদ কাশীপুরে নিজের মধ্যে ইংরেজি বিদ্যালয়, দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন করেছিলেন। পুরুলিয়ার লেডি ডাফরিন হাসপাতাল,জেলা সদর হাসপাতাল, কুষ্ঠাশ্রম ,পশু চিকিৎসালয় প্রভৃতি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে তার অবদান অনস্বীকার্য।


তার রাজ্যের অন্তর্গত ধানবাদ -আসানসোল এলাকায় পরবর্তীকালে মাটির নিচ থেকে কয়লা বের হওয়ায় তার ‘রয়্যালটি’ পান জ্যোতিপ্রসাদ।কাশীপুরে বর্তমানে যে সুদৃশ্য রাজবাড়ী রয়েছে ,সেটি জ্যোতিপ্রসাদ নির্মাণ করেছিলেন।কাশিপুর এর পুরাতন ঘরে এলাকায় থেকে সরে বামমনি মৌজায় তিনি এই বাড়িটি তৈরি করে করেন।

বিশাল জমাদার বাঁধের জল থেকে জল বিদ্যুৎ তৈরি করে প্রাসাদে আলোর ব্যবস্থা করেছিলেন জ্যোতিপ্রসাদ। নল বাহিত জলের ব্যবস্থাও ছিল এখানে।তার সময় এই তৎকালীন বিহার ওড়িশার ছোটলাট এইচ এইচ বেইলি তার ও সহধর্মিনী লেডি বেইলি কাশীপুরে আসেন।

তারা১৯৩১ সালের ১৫ জানুয়ারি কাজিপুর ওয়াজের মধ্যে বেকো নদীর উপরে তৈরি করা সেতুর উদ্বোধন করেন। এই সেতু নির্মাণ করেছেন জ্যোতিপ্রসাদ। এছাড়াও তিনি কাশীপুরে পঞ্চকোট রাজ বংশের কুল দেবের মন্দির নির্মাণ করেছিলেন।

দুর্গাপূজা, রাস উৎসব, দোল সহ বিভিন্ন পুজো অনুষ্ঠান ধুমধামের সঙ্গে পালন করা হতো। জ্যোতিপ্রসাদ তার সম্পর্কে স্বারস্বত সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। যাত্রা নাটক পালা গান সংগীতসহ শিল্পচর্চার কেন্দ্র ছিল এই স্বারস্বত সমাজ।
দীলিপবাবু বলেন, ‘দক্ষিণ বঙ্গের অন্যতম প্রধান প্রবক্তা ছিলেন রাজা নীলমণি’। এই গান কে তিনি রাজবাড়ীর অন্দরমহল থেকে তুলে দেন সাধারণ মানুষের কণ্ঠে। এলাকার বাসিন্দা সঙ্গীতশিল্পী উদয়ন ভট্টাচার্য বলেন,’এস আর ও সদর সমাজের অন্যতম শিল্পী ছিলেন ধ্রুবেশ্বর লাল সিংহ দেও’।

Kashipur Rajbari in Purulia-বেলজিয়াম পেন্টিং করা কাচ, সুবৃহৎ ঝাড়লন্ঠন ,পাথরের মূর্তি দেখলে রাজাদের রুচির পরিচয় পাওয়া যায়।আবার রাজাদের স্বীকার করো আমি মৃত বাঘ সিংহ বায়ু সনচিতা প্রভৃতির দেহের ভিতর থেকে নাড়িভুঁড়ি বের করে খড় ভরে স্টাফড বা ট্যাক্সিডার্মি এ রাখা আছে।

আরও আছে রাজাদের ব্যবহৃত তরোয়াল, ভাল, বর্শা ইত্যাদি যুদ্ধাস্ত্র। তবে রাজবাড়ীতে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ। বর্তমানে এই বাড়িতে রাজপরিবারের বংশধররা থাকেন। শুধু পুজোর সময় রাজবাড়ির একাংশ সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়।


রাজবাড়ীর বর্তমান প্রজন্ম মনে করেন কাশীপুর কে বাদ দিয়ে পুরুলিয়ার ইতিহাস অসম্পূর্ণ। এই বাড়ি ঘিরে পর্যটন এর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি ঘিরে যে রকম পিপিপি মডেল-এ পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার ব্যবস্থা শুরু হয়েছে ,সেই রকম রাজবাড়ী কে ঘিরেও সেরকম ব্যবস্থার ভাবনা রয়েছে।

This Post Has 2 Comments

  1. Sudipta Acharyya

    অনেক সমৃদ্ধ হলাম তথ্য বহুল এই রচনায়।

Leave a Reply