You are currently viewing Purulia Tourist Spot – শেঁয়াতি পাহাড়। 

Purulia Tourist Spot – শেঁয়াতি পাহাড়। 

Purulia Tourist Spot-শেঁয়াতি পাহাড়। শেঁয়াতি পাহাড় একটি কি? এর উৎপত্তি কোথায়? এর অর্থ কি? কিভাবে জানা যায়? কবে সৃষ্টি? কত দূর বিস্তৃত, সব তথ্য আছে এখানে।

মেদিনীপুর, পুরুলিয়া শহর ও বাঁকুড়া এই তিনটি রাজ্যের সাথে যুক্ত ছিল বিহার। তাই বাংলা ও হিন্দি ভাষার সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা এই ভাষা রাঢ় ভাষা নামে পরিচিতি লাভ করেছে, যা পুরুলিয়ার কথ‍্য বা আঞ্চলিক ভাষা ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত বিহার জেলার সঙ্গে আবদ্ধ ছিল। যার ফলে এই ভাষার উৎপত্তি হয় ও প্রকাশ লাভ করে। “শেঁয়াতি” এটি প্রধানত হিন্দি ভাষা থেকে আবির্ভূত বা জন্ম হয়েছে বলে জানা যায়।

এই হিন্দি ভাষী ”শেঁয়াতি” কথার অর্থ হল সৈত‍্য বা অতীতে ছিল পর্বতমালার অংশ বিশেষ। এটি নামকরা Purulia Tourist Spot . এটি বর্তমানে ঝাড়খন্ড এবং পশ্চিমবঙ্গ কে আলাদা দুটি সীমান্ত নির্দেশ করে। উচ্চতা প্রায় ৭০০ মিটারের কাছাকাছি। পূর্বে পুরুলিয়ার পুনদাগ অঞ্চল থেকে সৃষ্ট হয়।

অপরদিকে ঝাড়খণ্ডের বোকারো খনি অঞ্চল থেকে শুরু হয়ে ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগ জেলার গোলা অঞ্চল বা রাজরপ্পা গিয়ে সমাপ্তি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের হেঁসাতু অঞ্চল এর শেষ অংশ বা সীমান্ত বলা যায়। পূর্বে পশ্চিমে দৈর্ঘ্য প্রায় একশত কিলোমিটারের মতো।

এই শেঁয়াতি পাহাড়ের মাঝ বরাবর একটি ছেদ বা ঘাট রয়েছে ও পাহাড়ি সংকীর্ণ পথও রয়েছে যেটি ঝাড়খণ্ডের বোকারো ও হাজারিবাগ জেলাকে খুব সহজে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছে। আর এই শেঁয়াতি পাহাড়ের ঝর্ণা এই ঘাট ধরেই নিচে সমতলে নেমে এসেছে, এই স্থান এর নাম হলো “বকদ” 

‘বকদ’ হলো একটি গ্রামের নাম। যেখানে প্রায় ৩০০০ এর মত মানুষের বাস। এই গ্রামের নাম করণের পাশেও এই পাহাড়ের ই অবদান আছে বলে মনে করা হয়। মনে করা হয় সম্ভাব্য এই করণের জন্য এই রূপ নাম নাম নিয়েছে সমতলের এই গ্রাম।

শেঁয়াতি পাহাড় এখানে ধনুকের মতন বাঁকা হয়ে দক্ষিণের পশ্চিম দিকে গিয়ে অনেকটা ‘ব’ মতো আকৃতি ধারণ করেছে।

Purulia Tourist Spot

বিপরীত ভাবে মনে করা হয় শেঁয়াতির ঝর্ণা এই পথ হয়ে  সমতলে নেমে আসার জন্য এই গ্রামে এক জলা জমির সৃষ্টি করেছে যেথায় বিভিন্ন জলাচর প্রাণী সহ বক পাখির বাসা ছিল। যার ফলে এই গ্রামের নাম হয় ‘বকদহ’-বকদা-বকদ। 

শেঁয়াতি পাহাড়ের নীচে অবস্থিত এই গ্রাম টির ও এক পূর্বত ইতিহাস আছে, বলা হয় এই গ্রাম এর সূচনা হয় দেশ স্বাধীনের আগেই এমন কি ইংরেজ শাসনের ও বহু সময় পূর্ব থেকে।

জানা যায় যে, রাম ভোক্তা এবং স্বরূপ ভোক্তা নামে দুই ভাই ছিলেন। এদের পিতা মহো ও প্রপিতামহোরা ঝাড়খণ্ডের ‘সিলি প্রখণ্ডের’ ‘হাজাম বোনতা’ নামক এক গ্রামে বাস করতেন বলে জানা যায়। সেই সময় শাসন করতেন নাগ বংশীয় রাজা রঘুনাথ সাহ্ ছোটনাগপুর অঞ্চলে।

রামগড়, সিলি, তামার অঞ্চলে জঙ্গল রাজ্য বহাল ছিল। রামগড় একসময় ভয়ঙ্কর ভাবে তুর্কি দের আয়ত্তে চলে যায়, যার ফলে জঙ্গলের আদিবাসী দের প্রতি শুরু হয় তুমুল অত্যাচার ও জঙ্গলের ক্ষতি করতেও তারা পিছু পা হয় না, যার ফলে তাদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। 

       এর পর শুর হয় তাদের পাশবিক       অত্যাচারের মূল বিষয়:- লোকজ মুখে জানা তুর্কিরা আদিবাসীদের সুন্দরী কন্যা ও নারীদের অপহরণ করে নিয়ে চলে যেত ও করতো জঘন্য দুর্ব্যবহার। তুর্কিরা যে কোনো অবস্থায় , যে কোনো মূল্যে , কারণ অকারণে অত্যাচার করেই চলতো তাদের এমনকি আদিবাসী গৃহকর্তা দের মস্তক ছেদ করেও শান্ত থাকতো না।

এই কাজ গুলো করতো বেশিরভাগ সময় তাদের সেনারাই। সেই সময় বাড়িতে যুবতী নারীদের নিয়ে বসবাস করা দায় হয়ে ওঠে, তারা আতঙ্কের মধ্যে দিন যাপন করতে হতো। তুর্কি সেনাদের সঙ্গে লড়াই করে জেতা সম্ভব হয়ে উঠত না। 

আরো পড়ুন – অযোধ্যা পাহাড়

সেই সময় নারীদের সম্মান ও বংশের মান সম্মান বাঁচানো দায় হয়ে ওঠে, রাম-স্বরূপ দুই ভাই নিজের স্ত্রী ও যুবতী কন্যাদের কে নিয়ে গভীর রাত্রে অনিশ্চিত ভাবে এক গরুর গাড়িতে করে আদি বাসস্থান ত্যাগ করে চলে যান। তাদের যাত্রা পথ ছিল – উত্তর অভিমুখে অনির্দিষ্ট গন্তব্য স্থল।

সুবর্ণরেখা নদী পার করে তারা এগিয়ে যায় দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে, এভাবেই চলতে চলতে রাত্রি পেরিয়ে ভোর হয়। একসময় এই শেঁয়াতি পাহাড়ের কাছে এসে তাদের গাড়ির চাকা ভেঙে পড়ে। অগত্যা তাই আর এগোতে পারে না, চতুর্দিকে জনমানব শূন্য, গভীর জঙ্গল, সামনে রাস্তা নেই, শুধুমাত্র বিশাল বিশাল পাহাড়, এই অবস্থায় তারা কিভাবে পারবে সামনের পথে এগিয়ে যেতে?  অন্যদিকে এতদূর দুর্গম রাস্তা পার করে আসার পর সবাই ক্লান্ত। চোখে ঘুম, দরকার বিশ্রামের।

অবশেষে পুরো পরিবার এখানেই বিশ্রাম নেয়ার ব্যবস্থা করে। দিন শেষ হয়ে আবারো রাত্রি নামে এই জঙ্গলের বুকে, তারা বুঝতে পারেন এত ঘন জঙ্গল রাস্তা বিহীন অঞ্চলে কোন সৈন্য-সামন্ত তো দূর কোন কাক পক্ষী ও বুঝতে পারবে না তারা কে? কোথায় আছে।

তাই তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বসবাস শুরু হয়ে যায় এই অঞ্চলের এই স্থানে। পরিবারের সকলের পছন্দ হয়ে যায় এই নিরিবিলি স্থান, এই নির্জন শান্তি পরিবেশ তাই এখানেই তারা বসতি গড়ে তোলেন। ক্রমে ক্রমে কুমোর, ডোম, রাজপুত, কাললোয়ার ইত্যাদি বিভিন্ন জাতির এক এক করে বসতি গড়তে থাকে এই গ্রামে। এর ফলে একসময় এক বিশাল জনবসতি গড়ে ওঠে এই পাহাড়ের ছত্রছায়ায়।

 রাম-সরূপ এর বংশধরেরা এখনো গ্রামের শুরুতে বা প্রথম প্রান্তে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে  বসবাস করেন। পশুপালন আর জঙ্গলের গাছগাছালি লতাপাতায় ছিল এদের জীবন কাহিনী লেখা। বর্তমানে খুব উন্নতি লাভ হয়েছে এমন কিছুই অনুভব যায় না। এখনো সেই অতীতের ধারাই বয়ে চলেছে তারা গুনগুন গুনগুন করে।

বর্তমান ঝালদা থানা থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে এই বকদ গ্রাম। ঝলদা সত্যভামা স্কুলের মোড় থেকে রাঁচি রোড হয়ে গোলা রোড ধরে আসলেই দেখা যায় এই বন। যার নাম “জুড়া” বন।  যার অর্থ ছায়া। প্রায় ৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই বন যেমন শান্ত ছিল এর কলরব, তেমন শাল গাছ, জাম গাছ আর আম গাছে পরিপূর্ণ ছিল এই বাগান।

দেহাতি মানুষ হাঁটাপথে আসার সময় সুশীতল ছায়াতলে ক্ষনিকের বিশ্রাম নিতেন এই বাগানে তাই এই বাগানের নাম জুড়া বন। মানুষের শান্তির ছায়া, শান্ত শীতল আবহাওয়া ভরিয়ে রাখত তাদের মন প্রাণ। আগলে রাখতো প্রত্যেক পথিককে, ছায়া দিত বট বৃক্ষের মতো। 

এরপর মাতোয়ারা বলে একটি গ্রাম আসে। যেখান থেকে সোজা সাত কিলোমিটার রাস্তা পেরোলেই সোজা পৌঁছে দেবে শেঁয়াতি পাহাড়ে। শেঁয়াতি ঝরনা ও একটি Purulia Tourist Spot, একটি ছোট ঝরনা হলেও, এর বিশেষত্ব হলো প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করে পাঁচ শত মিটার উঁচু থেকে ঘন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়ে ঘাঁটিতে এসে পড়েছে।

এর মূল স্রোতের কাছে যাওয়া খুব কষ্টকর ও বিপদসংকুল। বকদ ও ঝাড়খণ্ডের পিরগুল অঞ্চলের মানষ তথা প্রানীকুলের কাছে এটি একটি তৃষ্ণা ‘নিবারনি’ প্রান সঞ্চারিনি ও বটে।

গ্রীষ্মকালে জলের স্রোত ক্ষীন থাকলে ও স্বচ্ছ নির্মল জল পাওয়া যায়। আর তার যত কাছে আসবেন এক সুমধুর সুরে গুনগুন করা মধুর তান অনায়াসে আপনার মন সুন্দরভাবে ভরিয়ে দিয়ে আপনাকে  প্রাণোচ্ছল করে দেবে।।

 

Leave a Reply