You are currently viewing মন্দির নগরী বিষ্ণুপুর ভ্রমণ – Temple City Bishnupur Travel Guide

মন্দির নগরী বিষ্ণুপুর ভ্রমণ – Temple City Bishnupur Travel Guide

Temple City Bishnupur Travel Guide -মন্দিরনগরী বিষ্ণুপুর ভ্রমণ গাইড ::-প্রাচীন মল্লভূমের রাজধানী মন্দির নগরী বিষ্ণুপুর অধুনা বাঁকুড়া জেলার অন্তর্গত অন্যতম একটি মহকুমা শহর । বাঁকুড়া জেলাতে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার (ASI) তালিকাভুক্ত মনুমেন্টস অফ ন্যাশনাল ইম্পট্যান্স রয়েছে মোট 34 টি । তার মধ্যে 20 টি রয়েছে এই মন্দিরনগরী বিষ্ণুপুর শহরে ।

বিষ্ণুপুরের কুড়িটি ASI তালিকাভুক্ত মনুমেন্টসের মধ্যে তিনটেতে প্রবেশ করার জন্য টিকিট কাটতে হয় – রাসমঞ্চ , শ্যামরাই মন্দির ও জোড়বাংলা মন্দির ।

1 . রাসমঞ্চ – Bishnupur Travel Guide

1600 খ্রিষ্টাব্দে মল্লরাজ হামবীর মল্লদেব (বীর হামবীর) এর সময়কালে নির্মিত । মন্দিরটি বর্গাকার , প্রতি বাহু 24.5 মিটার , উচ্চতা 12.5 মিটার । মন্দিরটি ল্যাটেরাইট পাথরের তৈরি চাতালের উপরে নির্মিত , মন্দিরের উপরের অংশটি ইস্টক নির্মিত পিরামিড আকৃতির , মাঝের অংশটি কুঁড়েঘর আকৃতির । রাসমঞ্চের মাঝে রয়েছে একটি ছোট মন্দির ও সেটিকে ঘিরে রয়েছে তিনটি স্তরে বাঁকানো ছাদবিশিষ্ট দালান বারান্দা । পূর্বে প্রতি বছর রাসপূর্ণিমার সময় বিষ্ণুপুরের সমস্ত রাধাকৃষ্ণ মূর্তি রাসমঞ্চে এনে পুজো করা হয় ।

রাসমঞ্চের গুগল লোকেশান :-

https://maps.app.goo.gl/TWGUyF5L9mCEbfs99

রাসমঞ্চের উত্তর দিকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রয়েছে ভগ্নপ্রায় রাজবাড়ী ও বিষ্ণুপুর দুর্গ । এখানে একই জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে সাতটি ASI তালিকাভুক্ত মনুমেন্টস অফ ন্যাশনাল ইম্পট্যান্স (2-8 no.) এবং আরো বেশ কিছু পৌরাণিক নিদর্শন (A- G) ।।

2 . শ্যামরাই মন্দির (পঞ্চচূড়া মন্দির) 

এই মন্দিরটি ইস্টক নির্মিত পঞ্চরত্ন মন্দিরগুলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ ধরা হয় । 1643 খ্রিস্টাব্দে মল্লরাজ রঘুনাথ সিংহ দ্বারা স্থাপিত । ইস্টক নির্মিত এই মন্দিরটির ছাদটি চতুর্ভূজাকার বাঁকানো চালা ছাদ আকৃতির এবং পাঁচচূড়া বিশিষ্ট । মাঝের চূড়াটি আটটি করিডোর দিয়ে ঘেরা অষ্টভুজ আকৃতির । মন্দিরটির গায়ে টেরাকোটা কাজের সুন্দর নিদর্শন দেখতে পাওয়া যায় ।

শ্যামরাই মন্দিরের গুগল লোকেশান :-

https://maps.app.goo.gl/2YeZFt99TKwSJyGt6

#শ্যামরাই মন্দির থেকে বাইরে বেরিয়ে সামনে পরপর দেখতে পাবেন গুমঘর (A), ভগ্নপ্রায় মহাপ্রভু জিউ মন্দির(ও কৃষ্ণ বলরাম জোড়া দেউল মন্দির(C) । এগুলি ASI র তালিকাভুক্ত না হলেও প্রতিটিই পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন।

3 . জোড় বাংলা মন্দির

বিষ্ণুপুরের সর্বশ্রেষ্ঠ মন্দিরগুলির অন্যতম এই মন্দিরটি । এটি কেষ্ট রায় মন্দির নামেও পরিচিত । এটি 1655 খ্রিস্টাব্দে মল্লরাজ রঘুনাথ সিংহ দ্বারা স্থাপিত । বর্গাকার উঁচু ভিত্তির উপরে পরপর দুটি দোচালা কুটিরের সংযুক্তিতে গঠিত এবং সংযুক্তি স্থলের মধ্যভাগে একটি চারচালা শিখর রয়েছে । মন্দিরটির ভিতরে , বাইরে ও ছাদের নিচের অংশে পোড়ামাটির চোখধাঁধানো কাজ রয়েছে ।

কৃষ্ণলীলা , রামায়ন , মহাভারত , পৌরাণিক কাহিনী , শিকার দৃশ্য , সমসাময়িক সমাজচিত্র পোড়ামাটির ভাস্কর্যে ফুটিয়ে তোলা রয়েছে মন্দিরের গায়ে । মন্দিরটির স্থাপত্য , ভাস্কর্য ও নান্দনিক কারিগরি কুশালতা একে ভারতের শ্রেষ্ঠ পোড়ামাটির মন্দিরের মর্যাদা দিয়েছে ।

জোড় বাংলা মন্দিরের গুগল লোকেশান :-

https://maps.app.goo.gl/TsCx6pAMUgQrmNm68

4 . রাধাশ্যাম মন্দির

1758 খ্রিস্টাব্দে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ দ্বারা স্থাপিত বর্গাকৃতি দক্ষিণমুখী মাকরা পাথর দ্বারা নির্মিত গম্বুজাকৃতি এক শিখর বা একরত্ন মন্দির । মন্দিরটি প্রাচীর বেষ্টিত ও প্রশস্ত অঙ্গনের ভিতরে অবস্থিত । মন্দিরের গায়ে আঁকা ভাস্কর্যে কিছুটা পঙ্খের আবরণ বর্তমান রয়েছে এখনো । পাশের ভগ্নপ্রায় মন্দির থেকে বিগ্রহ তুলে এনে এই মন্দিরে রাখা হয়েছে । এখনো নিয়মিত পূজার্চনা হয় ।

রাধাশ্যাম মন্দিরের গুগল লোকেশান :-

https://maps.app.goo.gl/wzH9k5sQjrnw2Dth6

 মন্দিরের সামনেই রয়েছে মৃন্ময়ী মায়ের মন্দির (D) । মৃন্ময়ী দেবী দুর্গার একটি রুপ ।মল্লরাজ জগৎ মল্ল বিষ্ণুপুরে রাজধানী স্থানান্তরিত করার পর 997 খ্রিস্টাব্দে দেবী দুর্গার উদ্যেশে এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন । সেই সময় থেকে এই মন্দিরে এখনো পুজো চলছে । এটি বাংলার সব থেকে পুরানো দুর্গা পুজো । পুরাতন মন্দিরটির এখন আর দেখা মেলে না , মন্দিরটি এখন পুরোপুরি নতুন ভাবে গঠিত । এর পাশেই রয়েছে প্রাচীন রাজবাড়ী ও দুর্গের ধ্বংসাবশেষ (E) এবং ভগ্নপ্রায় দুটি দেউল (F) ।

5 . লালজি মন্দির

1658 খ্রিস্টাব্দে বীর সিংহ দ্বারা স্থাপিত এই একরত্ন মন্দিরটি ল্যাটেরাইট পাথর দিয়ে তৈরি ও চারিদিকে প্রাচীর বেষ্টিত । মন্দিরের সামনের দেয়ালে পঙ্খের কাজ আজও বর্তমান ।

লালজি মন্দিরের গুগল লোকেশান :-

https://maps.app.goo.gl/oqV1BWt1WPWdjmp9A

লালজি মন্দিরের সামনের খোলা মাঠটিতে গড়ে তোলা হয়েছে একটি নতুন পার্ক ।

6 . গড়দরজা বা পুরোনো দুর্গের দরজা

ল্যাটেরাইট বা মাকড়া পাথর দিয়ে তৈরি পুরানো দুর্গের উত্তরমুখী এই দরজাটি সপ্তদশ শতকে মল্লরাজ দ্বিতীয় বীর সিংহ দ্বারা স্থাপিত । দ্বিতল এই গড়দরজার ভিতরে সৈন্যদের থাকার ব্যবস্থা ছিল । মধ্যিখানের পথটির দুইদিকে সৈন্যদের থাকার ব্যবস্থা ও দেয়ালের গায়ে তির ও গোলা মারার ছিদ্র দেখতে পাওয়া যায় ।

গড়দরজার গুগল লোকেশান :-

https://maps.app.goo.gl/wzjjyXQPs3RQVzrN6

7 . ক্ষুদ্র প্রবেশ তোরণ

ল্যাটেরাইট পাথর দিয়ে তৈরি এই প্রবেশপথটি পুরোনো দুর্গের উত্তর ভাগে অবস্থিত । সপ্তদশ শতকে এটি তৈরি করেন মল্লরাজ বীর সিংহ । অতীতে এতে সম্পূর্ণ পলেস্তারার আবরণ ছিল । এখনো উপরের দিকে কিছুটা পলেস্তারার আবরণ বর্তমান ।

ক্ষুদ্র প্রবেশ পথের গুগল লোকেশান : –

https://maps.app.goo.gl/mzyvtFD5ASoCMqhi8

গড়দরজা ও ক্ষুদ্র প্রবেশ তোরণের পাশে মোচ্চা পাহাড় (G) নামে একটি টিলা আছে । প্রতিবছর মৃন্ময়ী মায়ের পূজার সময় এই টিলা থেকে কামানের গোলা ছুড়ে সন্ধিপূজোর শুভারম্ভ হয় ।

8 . পাথরের রথ 

সপ্তদশ শতকে তৈরি পাথরের তৈরি এই রথটি দ্বিতল ও তার উপরে একটি গম্বুজ , দুইদিকে 3 টি করে পাথরের চাকা বিশিষ্ট । প্রথম তলটি রাসমঞ্চের সঙ্গে সামঞ্জস্য রয়েছে , দ্বিতীয় তলটি একরত্ন মন্দিরের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা রয়েছে ।

পাথরের রথের গুগল লোকেশান : –

https://maps.app.goo.gl/EahJgrP6jj3TFF2P8

এই চত্তরটি ঘোরা শেষ হলে চলে আসুন ছিন্নমস্তা রোডে । মাঝ পথে সময় করে দেখে নিতে পারেন আচার্য্য যোগেশ চন্দ্র পুরাকৃতি ভবন (মিউজিয়াম) । ছিন্নমস্তা মন্দিরের আশেপাশে চত্বরে মাত্র এক কিলোমিটার হাঁটা দূরত্বের মধ্যে রয়েছে 6 টি ASI তালিকাভুক্ত নিদর্শন (9- 14 no.) ।।

9 . দলমাদল কামান – Temple City Bishnupur Travel Guide

3.8 মিটার লম্বা , 28.6 সেন্টিমিটার ব্যাস বিশিষ্ট লোহার তৈরি এই কামানটি মল্লরাজাদের সময়ের সবথেকে বড়ো কামান । প্রচলিত লৌকিক উপাখ্যান অনুযায়ী মল্লরাজ গোপাল সিংহের আমলে রাজপরিবার ও নগরের রক্ষাদেবতা

মদনমোহন স্বয়ং বর্গী সেনাপতি ভাস্কর রাওয়ের বিরুদ্ধে এই কামান ব্যাবহার করেছিলেন ।

দলমাদল কামানের গুগল লোকেশান : –

https://maps.app.goo.gl/15cs5946ad661wsr9

দলমাদল কামানের পরেই রয়েছে ছিন্নমস্তা মায়ের মন্দির । দুপুর একটা থেকে তিনটে পর্যন্ত বিশ্রামের জন্য মায়ের মন্দির বন্ধ থাকে । এই মন্দির থেকে মাত্র 350 মিটার দূরে রয়েছে জোড়মন্দির শ্রেণীর তিনটি মন্দির । কিন্তু এটা দেখার আগে চলুন আরো চারটে ASI তালিকাভুক্ত মন্দির দেখতে ।

ছিন্নমস্তা মন্দিরের 150 মিটার পরেই একটি সিমেন্টের রাস্তা বামদিকে চলে গেছে । পায়ে পায়ে হেঁটে চলুন এই রাস্তায় – দেখতে পাবেন পর পর নন্দলাল ও রাধাগোবিন্দ মন্দির । রাধাগোবিন্দ মন্দিরের সামনে রয়েছে রাধা মাধব মন্দির ও তার পাশে ASI এর অফিস । ASI অফিস চত্বরের মধ্য দিয়ে গিয়ে একেবারে শেষ প্রান্তে পাবেন কালাচাঁদ মন্দির ।

10 . নন্দলাল মন্দির

Temple City Bishnupur Travel Guide – সপ্তদশ শতাব্দীর তৈরি ল্যাটেরাইট পাথরের তৈরি এই মন্দিরটি বাংলার চালা ছাদযুক্ত ও একটি শিখরযুক্ত । মন্দিরের গায়ে পৌরাণিক কাহিনী বর্ণনা রয়েছে ।

নন্দলাল মন্দিরের গুগল লোকেশান : –

https://maps.app.goo.gl/CLWwgNvXTAqDDddz5

11. রাধা গোবিন্দ মন্দির 

মাকরা পাথরের তৈরি একরত্ন মন্দিরটি 1729 খ্রিস্টাব্দে কৃষ্ণ সিংহের আমলে তৈরি । বর্গাকার চাতালের উপরে অবস্থিত মন্দিরটি ঢালু ছাদ বিশিষ্ট এবং তার কেন্দ্রস্থলে শিখরটি অবস্থিত । মন্দিরের গায়ে ভাস্কর্য আগে চুনের আস্তরণে ঢাকা ছিল । মন্দিরের দক্ষিণে একটি ইট নির্মিত চার চাকা বিশিষ্ট রথ দেখা যায় ।

রাধা গোবিন্দ মন্দিরের গুগল লোকেশান : –

https://maps.app.goo.gl/8rWSa3s9S7kBueCM7

12 . রাধা মাধব মন্দির

মাকরা পাথরের দক্ষিণমুখী একরত্ন এই মন্দিরটি 1737 খ্রিস্টাব্দে মল্লরাজ কৃষ্ণ সিংহের পত্নী রানী চূড়ামনিদেবী নির্মাণ করেছিলেন । বর্গাকার ভিত্তিপিঠের উপরে মন্দিরের ঢালু ছাদের কেন্দ্রস্থলে একমাত্ৰ শিখরটি রয়েছে । মন্দিরের গায়ে রামায়ন , মহাভারত , পুরান বর্ণিত ভাস্কর্য দেখতে পাওয়া যায় । এই ভাস্কর্যগুলির গায়ে এখনো পঙ্খের প্রলেপ বিদ্যমান ।

রাধা মাধব মন্দির গুগল লোকেশান : –

https://maps.app.goo.gl/v31XEJxswvW8q7mg7

13 . কালাচাঁদ মন্দির 

মাকড়া পাথরের তৈরি একরত্ন মন্দিরটি বাংলা চালার ছাদ বিশিষ্ট। শিখরটি উত্তর ভারতীয় মন্দিরের ন্যায় । 1656 খ্রিস্টাব্দে মল্লরাজ রঘুনাথ সিংহের সময়কালে এটি তৈরি । মন্দিরের গায়ে পুরান, কৃষ্ণলীলা , সম সাময়িক জীবনধারা নিয়ে ভাস্কর্য চোখে পড়ে । এখনো এই ভাস্কর্যের গায়ে পঙ্খের আবরণ বিদ্যমান । মন্দিরটি দুটি দেয়াল দ্বারা বেষ্টিত ছিল যা এখন ভগ্নপ্রায় ।

কালাচাঁদ মন্দিরের গুগল লোকেশান : –

https://maps.app.goo.gl/zt75LCFfNiFrD3xQ7

14 . জোড়মন্দির শ্রেণী 

1726 খ্রিস্টাব্দে মল্লরাজ গোপাল সিংহের সময়ে এই মন্দির তিনটি তৈরি হয় । বাংলার ঢালু চালযুক্ত ও উত্তর ভারতের শিখর বিশিষ্ট মন্দির তিনটির গায়ে রামায়ন ও কৃষ্ণলীলার বিভিন্ন ভাস্কর্য রয়েছে । পঙ্খের কাজ এখনো বিদ্যমান ।

জোড়মন্দির শ্রেণী মন্দিরের গুগল লোকেশান : –

https://maps.app.goo.gl/G77QMQri7kZRAPgi9

এই জোড় মন্দির শ্রেণী চত্বরে প্রতি শনিবার “পোড়ামাটির হাট ” বসে । এছাড়া বিষ্ণুপুর মেলার একটা অংশ এই চত্বরে ও অন্য অংশটি বিষ্ণুপুর হাইস্কুল মাঠে হয়ে থাকে । এই চত্বর ও রাসমঞ্চে বিষ্ণুপুর মিউজিক ফেস্টিভ্যালও হয়ে থাকে।।

বিষ্ণুপুরের বাকি ছয়টি মন্দির (ASI তালিকাভুক্ত) কিছুটা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে । এই ছয়টি মন্দিরের মধ্যে 500 মিটার থেকে এক কিলোমিটারের পারস্পরিক দূরত্ব । পাতপুর মন্দিরটি খোলা মাঠের মধ্যে অবস্থিত । বাকি মন্দির 5 টি সরু গলির মধ্যে জনবসতির মাঝে অবস্থিত ।

15 . মদনগোপাল মন্দির

Temple City Bishnupur Travel Guide- মাকড়া পাথরের তৈরি বিষ্ণুপুরের একমাত্র পঞ্চরত্ন মন্দির এটি । বাংলা চালার ছাদ ও পাঁচটি শিখর বিশিষ্ট । 1665 খ্রীষ্টাব্দে মল্লরাজ বীর সিংহের পত্নী রানী শিরোমনি এই মন্দিরটির প্রতিষ্টাতা ।

মদনগোপাল মন্দিরের গুগল লোকেশান : –

https://maps.app.goo.gl/4tkUBvceFBTrwKRa6

16 . মুরলীমোহন মন্দির

দক্ষিণমুখী মাকড়া পাথরের তৈরী একরত্ন এই মন্দিরটি 1665 খ্রীষ্টাব্দে মল্লরাজ বীর সিংহের পত্নী রানী শিরোমনি প্রতিষ্টা করেন । বর্গাকার ভিত্তির উপরে স্থাপিত মন্দিরটির ঢালু ছাদের উপরে একমাত্র শিখরটি অবস্থান ।

 

মুরলীমোহন মন্দিরের গুগল লোকেশান : –

https://maps.app.goo.gl/f1ZVjFqN6dxKhfQh7

17 . মল্লেশ্বর মন্দির

এই মন্দিরটি মল্ল রাজাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একমাত্র শিবমন্দির । 1622 খ্রিষ্টাব্দে মল্লরাজ বীর সিংহ দ্বারা এটি প্রতিষ্ঠিত । মাকড়া পাথরের তৈরি মন্দিরটি বিষ্ণুপুরের সব থেকে পুরাতন মন্দির । মন্দিরটির সামনে একটি বিশ্রামরত নন্দী মূর্তি বর্তমান ।

মল্লেশ্বর মন্দিরের গুগল লোকেশান : –

https://maps.app.goo.gl/z9cMG1joF3FaC6YT9

18 . মদনমোহন মন্দির 

1694 খ্রিস্টাব্দে মল্লরাজ দুর্জন সিংহ এই একরত্ন মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন । বাংলা চালের ছাদে একটি শিখর বিশিস্ট ইটের তৈরি একরত্ন মন্দিরগুলির মধ্যে এই মন্দিরটি সেরা । চারিদিকে ইটের তৈরি উঁচু দেয়াল , মন্দিরের দক্ষিণে একটি ভগ্নপ্রায় কীর্তনশালা অবস্থিত । মন্দিরের দেয়ালে টেরাকোটার কাজ দেখবার মতন – পুরান ও কৃষ্ণলীলার বিভিন্ন বিষয়বস্তু ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ।

মদনমোহন মন্দিরের গুগল লোকেশান : –

https://maps.app.goo.gl/zMArJH9H9ScrSFq2A

19 . রাধাবিনোদ মন্দির

1659 খ্রিস্টাব্দে মল্লরাজ রঘুনাথ সিংহের পত্নী এই আটচালা মন্দিরটি প্রতিষ্টা করেন । প্রায় বর্গাকৃতি ভিত্তির উপর অধিষ্ঠিত এই মন্দিরটি উপরিভাগ আটচালা কিন্তু মধ্য ও নিম্ন ভাগ চতুর্ভূজ হওয়ার দরুন এটিকে প্রথম নজরে চারচালা বলে ভুল হতে পারে ।

রাধাবিনোদ মন্দিরের গুগল লোকেশান :-

https://maps.app.goo.gl/TgYRCz1SXdKPbYJS7

20 . পাতপুর মন্দির

অষ্টাদশ শতাব্দীর দ্বিতীয় ভাগে এই একরত্ন মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা পায় । মাকরা পাথরের তৈরি , বাংলা চালা ছাদ বিশিষ্ট ও উত্তর ভারতীয় শিখর যুক্ত মন্দির । মন্দিরের সামনে দরজার দুই ধারে বিষ্ণুমূর্তি বিদ্যমান।

পাতপুর মন্দিরের গুগল লোকেশান :-

https://maps.app.goo.gl/GHNs8grEQWaPLVco9

 এছাড়া মল্লরাজদের সময় খনন করা সাতটি বাঁধ রয়েছে – লালবাঁধ , শ্যামবাঁধ , পোকাবাঁধ , যমুনাবাঁধ , কালিন্দী বাঁধ , গাঁতাত বাঁধ , কৃষ্ণবাঁধ । এরমধ্যে লাল বাঁধে নৌকা করে ঘুরে বেড়ানোর ব্যাবস্থা চালু হয়েছে ।

 বিষ্ণুপুরে অনেক টোটো ও ছোট গাড়ি আছে । টোটো সাধারণত 300 – 400 টাকা মতো রেট বলে ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য । কিন্তু সমস্ত জায়গাগুলো নিয়ে যায় না । তাই আগে থেকে ভালো করে কথা বলে নেবেন । সমস্ত স্পট দেখতে গেলে অনেক সময়ও লাগবে তাই ভাড়া বেশি বলতে পারে ।

বিষ্ণুপুরে এসে শপিং করতে ভুলবেন না কিন্তু । বিষ্ণুপুরের বালুচরি ও স্বর্ণচরি শাড়ি পৃথিবী বিখ্যাত । শুধু কেনা নয় এখানকার দোকানগুলির ওয়ার্কশপে আপনি বালুচরি শাড়ি তৈরি করা দেখতেও পাবেন । এছাড়া বাঁকুড়ার বিখ্যাত পোড়ামাটির ঘোড়া ও অন্যান্য টেরাকোটার সামগ্রী তো রয়েইছে । রয়েছে বিষ্ণুপুরের স্পেশাল লণ্ঠন , দশঅবতার তাস , পটচিত্র , শাঁখ ও কাঠের কাজ , ডোকরা শিল্প , পাথরের কাজ ইত্যাদি ।

প্রতিবছর বিষ্ণুপুরে 23-27 ডিসেম্বর বিষ্ণুপুর মেলা বসে । মেলাটি এখন দুটি ভাগে ভাগ হয়ে বসে । বিষ্ণুপুর হাইস্কুল মাঠে ও জোড় শ্রেণী মন্দিরের সামনের মাঠে ।দোল উৎসব ও রথ যাত্রা খুব ধুমধাম করে পালন করা হয় বিষ্ণুপুরে। ফেব্রুয়ারী মাসের দিকে বিষ্ণুপুর মিউজিক ফেস্টিভ্যাল হয়ে থাকে ।

Purulia Tour 

বিষ্ণুপুরকে কেন্দ্র করে যে সব পৌরাণিক নিদর্শনগুলো ঘোরা যেতে পারে তার একটা ধারণা এখানে দেয়ার চেষ্টা করছি ।

১. বিষ্ণুপুর থেকে মাত্র 8 km দূরে ডিহর গ্রাম । এখানে যেতে গেলে আপনাকে সিমেন্ট ও মোরামের রাস্তা ধরে যেতে হবে । টোল দিয়ে পেরোতে হবে মোরাম বিছানো জলহীন দ্বারকেশ্বর নদ ।এই গ্রামে রয়েছে মল্লরাজ পৃথ্বীমল্ল দ্বারা 1346 সালে নির্মিত শৈলেশ্বর ও ষাঁড়েশ্বর মন্দির । এই মন্দিরদুটি ল্যাটেরাইট পাথরের তৈরি ও নাগারা আকৃতির শিখর ছিল বলে মনে করা হয় যা বর্তমানে নেই । মন্দিরদুটি উড়িষ্যার রেখ দেউলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রয়েছে । মন্দিরের খিলানের গায়ের কাজ উল্লেখযোগ্য । এই দুটি মন্দির ASI তালিকাভুক্ত পৌরাণিক নিদর্শন (21 & 22) ।

শৈলেশ্বর ও ষাঁড়েশ্বর মন্দিরের গুগল লোকেশান :-

https://maps.app.goo.gl/eVMMV9WUR8YEmZs68

২. বিষ্ণুপুর সরাসরি আসার আগে অনেকে তারকেশ্বর আরামবাগ হয়ে আসতে পারেন । এর ফলে আপনি কামারপুকুর ও জয়রামবাটিতে শ্রী শ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ও সারদা মায়ের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলি দেখে নিতে পারবেন ।

এরপর জয়পুর – বিষ্ণুপুর রোড ধরে দেখে নিতে পারেন জয়পুরের জঙ্গল । জয়পুর জঙ্গলের আগে মূল রাস্তা থেকে 4 কিমি ভিতরে রয়েছে “গোকুলচাঁদ মন্দির” (23)। গোকুলচাঁদ মন্দির বাঁকুড়া জেলার সর্ববৃহৎ পাথরের মন্দির । মন্দিরটি পূর্বমুখী, 64 ফুট উঁচু , পাঁচ চূড়া বিশিস্ট , চারিদিকে প্রাচীর দিয়ে ঘেরা , বাঁকানো প্রবেশপথ এবং মাকরা পাথর দিয়ে তৈরি । দেখতে অনেকটা দুর্গের মতো ।

Temple City Bishnupur Travel Guide – পাঁচ চূড়ার মূল চূড়াটি আটটি কোন বিশিষ্ট এবং চারদিকের চূড়াগুলি চারকোনা বিশিষ্ট ।দক্ষিণে রয়েছে একটি নাটমঞ্চ – তার সামনে প্রশস্থ বারান্দা । মন্দিরটির তিনদিকে বারান্দা , চারিদিকে প্রশস্থ প্রদক্ষিণ পথ । মন্দিরের সামনে ও দক্ষিণে রয়েছে মাকড়া পাথরে খোদাই করা ভাস্কর্য । মন্দিরের দক্ষিণ দেয়ালের প্রতিষ্ঠালিপি থেকে জানা যায় মন্দিরটি 1643 সালে মল্লরাজ প্রথম রঘুনাথ সিংহের রাজত্বকালে নির্মিত ।। মন্দির ও নাটমঞ্চ সহ পুরো কমপ্লেক্সটি 23,500 বর্গফুট জায়গার উপরে অবস্থিত ।।

মন্দিরের কৃষ্ণমূর্তি এখন বিষ্ণুপুর রাজবাড়িতে রাখা থাকে । রাসের সময় মূর্তি আবার এই মন্দিরে ফিরিয়ে এনে পুজো করা হয় । এই মন্দিরটি 1923 সালে প্রথম সংস্কার করার চেষ্টা করেন রাখালদাস বন্দোপাধ্যায় । পরে 1996 সালে আর্কেওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া এটিকে অধিগ্রহণ করে সংস্কারকার্য শুরু করে এবং মন্দিরটিকে মনুমেন্টস অফ ন্যাশনাল ইম্পট্যান্স এর তকমা দেয়া হয় ।

গোকুলচাঁদ মন্দিরের গুগল লোকেশান :-

https://maps.app.goo.gl/tmXzdKWiGY6R2x498

এছাড়া জয়পুর অঞ্চলে রৌথখণ্ড এলাকায় ভগ্নপ্রায় একটি রাধাকৃষ্ণ মন্দির আছে ।

 

=======================================

:: বিষ্ণুপুরে যোগাযোগ ব্যবস্থা :: Temple City Bishnupur Travel Guide

বিষ্ণুপুরের সঙ্গে বাঁকুড়ার বাকি অংশের , পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর ও কলকাতার বাস ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই ভালো । কলকাতা থেকে আসার ট্রেনগুলি হলো :-

# রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস (সাঁতরাগাছি 6:25 am /প্রতিদিন ),

# রাজ্য রানী এক্সপ্রেস (শালিমার 6:30 am / সোম, শুক্র,শনিবার) ,

# আরণ্যক এক্সপ্রেস ( শালিমার 7:45am /রবি বাদে),

# হাওড়া- রাঁচি ইন্টারসিটি স্পেশাল (হাওড়া 12:50 pm রবি/সোম/মঙ্গলবার),

# হাওড়া পুরুলিয়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস (হাওড়া 4:50 pm প্রতিদিন),

# শিরোমনি পাশেঞ্জার (হাওড়া 5:45 pm প্রতিদিন) ,

# হাওড়া -চক্রধরপুর / বোকারো ফাস্ট পাশেঞ্জার (হাওড়া 11:05 pm প্রতিদিন) ।

 

———————————————————————————-

:: বিষ্ণুপুরে থাকার ব্যাবস্থা – Temple City Bishnupur Travel Guide

## Government Accommodation::

1. Bishnupur Tourist lodge – (03244)252013 / 9732100950

2. Bishnupur municipality Dormitory – (03244)252200 / 9732166080

3. P.W.D. Bungalow – (03244)252056 / 256765

4. Forest Bungalow – (03244)252189

5. Kangsaboti Bungalow – (03244)252074

6. Agri irrigation Bungalow – (03244)252029

## Private Accommodation ::

7. Udyan Lodge – (03244)254060 / 252243 / 9126341926

8. Hotel Laxmi Park – (03244)256353 / 9474930666

9. Hotel Heritage – (03244)254298 / 9434160193

10. Paradise Lodge – (03244)252947 /9434124618

11. Monalisha Lodge – (03244)252894 / 9434115177

12. Luxury Lodge – (03244)253466 / 9434588068

13. Bishnupur Lodge – (03244)253749 / 7407153601

14. Lodge Meghamollar – 8116205026 / 9732084676

15. Mallabhum Lodge – (03244)252765 / 9434224896

16. Rangini Lodge – (03244) 252298 / 9800276332

17. Mukherjee Lodge – 9635116282

18. Hotel Hira – (03244)254253 / 7384848023

19. Lali Hotel – 9635116282

20. Hotel Third Eye – 9635340851 / 9475049358

21. Holiday resort – (03244)202031 / 9475982470

22. Hotel Sibam Lodge – (03244)9800955849

23. Lodge Purbarag – (03244)253660 / 255717 / 9434314116

24. Madona Hotel & Restaurant – 9609503854

25. Hotel Sagar & Lodge – (03244)256522 / 9126626801

26. Dev & Dev Lodge – (03244)252934 / 9434392072

27. Pritam Lodge – (03244)256210 / 8348494500

28. Lodge Sonar Bangla – 9734229457 / 9464695290

** তথ্যসূত্র – বিষ্ণুপুর মেলা ও উৎসব কমিটির দ্বারা ‘Destination Bishnupur’ নামে বিলি করা প্রচারপত্র ।

—————————————————————————-

বিষ্ণুপুরের প্রয়োজনীয় ফোন নম্বর :-

1. S.D.O. office , Bishnupur – (03244)252055 /252376 / 254313

2. S.D.I & C.O , Bishnupur – (03244)252066

3. Railway station – (03244) 252049

4. Hospital & Blood Bank – (03244) 252065

5. Police Station – (03244) 252024

6. Tourist Guide – 9732125363 / 9434479577 /9434479575

** তথ্যসূত্র – বিষ্ণুপুর মেলা ও উৎসব কমিটির দ্বারা ‘Destination Bishnupur’ নামে বিলি করা প্রচারপত্র ।

Leave a Reply